গাজায় ইসরায়েলের ‘গণহত্যামূলক’ কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের ৪৬০ জন বিশিষ্ট ইহুদি ব্যক্তিত্ব। সম্প্রতি প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তারা জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে এই আহ্বান জানান। চিঠিতে বলা হয়, “আমরা ভুলে যাইনি যে, হলোকাস্টের পর মানবজীবন রক্ষায় যে আন্তর্জাতিক আইন ও সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল, ইসরায়েল আজ তা ক্রমাগত লঙ্ঘন করছে।”
স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ইসরায়েলি কর্মকর্তা, অস্কারজয়ী শিল্পী, লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী। তারা ইসরায়েলের গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি দাবি করেছেন। চিঠিতে আরও বলা হয়, যখন প্রমাণ আসতে শুরু করেছে যে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড আইনি সংজ্ঞায় গণহত্যার পর্যায়ে পড়ে, তখন অপরিমেয় দুঃখে আমাদের মাথা নত হয়ে আসে। বিশিষ্ট এই ইহুদিরা জাতিসংঘের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন—ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করা, দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা, গাজায় অবাধ মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, এবং আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়ন করা।
তারা আরও লিখেছেন, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করা ইহুদিবিদ্বেষ নয়, বরং আমাদের ধর্মের মানবিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন। একটি জীবন ধ্বংস করা মানে পুরো পৃথিবী ধ্বংস করা এই শিক্ষায় ফিলিস্তিনিরাও অন্তর্ভুক্ত। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি যতক্ষণ না দখলদারিত্ব ও বৈষম্যের সমাপ্তি ঘটায়, ততক্ষণ আমরা নীরব থাকব না।” সাম্প্রতিক জরিপগুলোতেও দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বহু দেশে ইহুদি ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও ইসরায়েলের প্রতি বিরূপ মনোভাব বাড়ছে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন ও ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশের বেশি মার্কিনি ইহুদি মনে করেন, ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধাপরাধ বা গণহত্যা করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৬৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বাসিন্দাই বাস্তুচ্যুত।
