ছবি: সংগৃহীত
দুই বছরের যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে গাজার হাসপাতালগুলো এখন প্রায় অচল। চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি, ওষুধের অভাব এবং সীমান্ত বন্ধ থাকায় অসংখ্য শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-র হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার রোগীর জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য গাজার বাইরে নেওয়া প্রয়োজন।
তিন বছরের leukemia-তে আক্রান্ত জাইন তাফেশ এই সপ্তাহে চিকিৎসার অপেক্ষায় থেকেই মারা গেছে। দক্ষিণ গাজার নাসের হাসপাতালে শয্যাশায়ী আরও অসংখ্য শিশু মৃত্যুর প্রহর গুনছে।
দশ বছর বয়সী আমার আবু সাঈদ ইসরায়েলি গুলিতে গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘাড় থেকে নিচ পর্যন্ত পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তার মা ওলা আবু সাঈদ বলেন, “চিকিৎসকরা বলেছেন, অস্ত্রোপচার না করলে ওর প্রাণ বাঁচবে না, কিন্তু গাজার কোনো হাসপাতালে সেই ব্যবস্থা নেই।”
আরেক শিশু আহমেদ আল-জাদ, মস্তিষ্কে টিউমারে আক্রান্ত। তার বড় বোন শাহদ বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে আমাদের বাবা, ঘরবাড়ি ও স্বপ্ন হারিয়েছি। এখন শুধু আহমেদকে বাঁচাতে চাই। যুদ্ধবিরতির পর ভেবেছিলাম হয়তো এক শতাংশ সম্ভাবনা আছে—ওকে বাইরে চিকিৎসা করাতে পারব।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতির পর গত বুধবার প্রথমবারের মতো ৪১ জন রোগী ও ১৪৫ জন স্বজনকে ইসরায়েলের কেরেম শালোম সীমান্ত হয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এত সংখ্যক অসুস্থ ও আহত রোগীর জন্য এই সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল। তারা গাজার রাফাহ সীমান্ত দিয়ে আগের মতো রোগী স্থানান্তর চালু করতে চায়।
কিন্তু ইসরায়েল জানিয়েছে, হামাস তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত, অর্থাৎ মৃত জিম্মিদের মরদেহ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত রাফাহ সীমান্ত বন্ধই থাকবে। ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েল ওই সীমান্তের গাজা দিকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই এটি বন্ধ রয়েছে।
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বৃহস্পতিবার বলেন, “সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হবে, যদি ইসরায়েল গাজার রোগীদের পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে চিকিৎসা নিতে যেতে দেয়।”
অগাস্টা ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের প্রধান ড. ফাদি আত্রাশ জানান, “আমরা প্রতিদিন অন্তত ৫০ জন ক্যানসার রোগীকে কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন দিতে পারি। আরও অনেক হাসপাতাল অস্ত্রোপচার করতে সক্ষম।”
এদিকে হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ৭৪০ জন, এর মধ্যে প্রায় ১৪০ শিশু, চিকিৎসার অপেক্ষায় থেকেই মারা গেছে।
নাসের হাসপাতালের শিশু ও প্রসূতি বিভাগের প্রধান ড. আহমেদ আল-ফাররা বলেন, “চিকিৎসক হিসেবে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হচ্ছে—রোগ নির্ণয় করতে পারলেও পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকা। এই অভাবে প্রতিদিনই আমরা রোগী হারাচ্ছি।”
গত সপ্তাহে ওই হাসপাতালের প্রাঙ্গণে আট বছর বয়সী সাঈদি আবু তাহা-র দাফন সম্পন্ন হয়; সে পেটের ক্যানসারে মারা যায়। পরদিন তিন বছরের জাইন তাফেশ ও আট বছর বয়সী লুয়াই দুঈক হেপাটাইটিসে মারা যায়।
সূত্রঃ বিবিসি
