ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রূপি মার্কিন ডলারের তুলনায় সর্বনিম্ন মানে নেমেছে। সোমবার রূপির মান দাঁড়িয়েছে ৯০.৫৮ ডলারে। শুক্রবারও এটি ৯০.৫৫ ডলারে নেমেছিল। এর ফলে রূপির অবনতির এই ধারা দুই সপ্তাহ ধরে চলছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পতনের প্রধান কারণ হলো মার্কিন সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না হওয়া, দেশের বাইরে মূলধন প্রবাহ কম থাকা এবং বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাওয়া।
রূপির অবনতি এমন সময় ঘটছে, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে গেছে। পাশাপাশি ভারতের রপ্তানিতে মার্কিন শুল্কের ৫০ শতাংশ বাড়াও রূপিকে চাপ দিচ্ছে।
এই বছর রূপি ইতিমধ্যে ডলারের তুলনায় ৫ শতাংশের বেশি মান হ্রাস করেছে। ৩১টি প্রধান বৈশ্বিক মুদ্রার মধ্যে রূপি তৃতীয় সর্বনিম্ন পারফরম্যান্সের মধ্যে রয়েছে, তুর্কি লিরা ও আর্জেন্টিনার পেসোর পরে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রূপি ৯০-এর মান অতিক্রম করাটা গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। ২০১১ সালের তুলনায় রূপির মান এখন অর্ধেকের কাছাকাছি। এটি RBI (ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক) গভর্নর সজয় মালহোত্রার উপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে RBI রূপির পতন ধীর করার জন্য হস্তক্ষেপ করেছে। তবে রূপি ৮৮.৮০ এবং ৯০ লেভেল অতিক্রম করার পর RBI-এর সমর্থন কম কার্যকর মনে হচ্ছে।
RBI আন্তর্জাতিক বাজারে রূপির অবস্থা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে ডলার ভিত্তিক নন-ডেলিভারেবল ফরওয়ার্ড (NDF) চুক্তির মাধ্যমে। এই হস্তক্ষেপগুলো সিঙ্গাপুর, দুবাই ও লন্ডনের নির্বাচিত বড় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি ভারতের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রূপির পতন সামলাতে স্থিতিশীল নীতি ও বাজার হস্তক্ষেপ একসাথে প্রয়োজন।
রূপির এই ধীর পতন ভোক্তা মূল্যস্ফীতি, আমদানি ব্যয় এবং বিদেশি বিনিয়োগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে রূপির মান আরও নেমে যেতে পারে।
বর্তমানে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা রূপির অবস্থা নিয়ে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন। RBI আগামী দিনে রূপির মান স্থিতিশীল রাখতে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে পারে।
এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং তেলের দামও রূপির মানে প্রভাব ফেলছে। গোটা পরিস্থিতি ভারতের বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক আর্থিক অবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রূপির মানের এই পতন মোকাবিলায় RBI এবং সরকারের নীতি সমন্বয় খুবই জরুরি।
