ক্যারিবিয়ান দেশ জ্যামাইকায় ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী হারিকেন ‘মেলিসা’র সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। উপকূলীয় বাসিন্দাদের উঁচু ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ঘূর্ণিঝড়টি জ্যামাইকার উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝড়টি ইতোমধ্যে শক্তি সঞ্চয়ের সর্বোচ্চ স্তরে ক্যাটাগরি-৫ হারিকেন পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে জ্যামাইকা ও হাইতিতে তিনজন করে এবং ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে একজন নিহত হয়েছেন।
জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডু হোলনেস সতর্ক করে বলেছেন, “এই ঝড় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনতে পারে। দ্বীপটির পশ্চিমাঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। ওই অঞ্চলের অবকাঠামো ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার ঝড়ের ধাক্কা সহ্য করার মতো নয়, ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।”
জ্যামাইকার স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ডেসমন্ড ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছেন, পুরো দেশে ৮৮০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩৩টিতে ইতোমধ্যে মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানিয়েছে, ঝড়টির বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৭৫ মাইল (প্রায় ২৮০ কিলোমিটার)। আবহাওয়াবিদদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের অতি-শক্তিশালী ঝড়ের সংখ্যা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জ্যামাইকার উপর দিয়ে তাণ্ডব চালানোর পর হারিকেন ‘মেলিসা’ মঙ্গলবার রাতেই পূর্ব কিউবা অতিক্রম করতে পারে।
সাধারণভাবে, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর ও মেক্সিকো উপসাগরে সৃষ্ট ঝড়কে হারিকেন, প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে সৃষ্ট ঝড়কে টাইফুন এবং বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঝড়কে সাইক্লোন বলা হয়।
