ঢাকা বুধবার ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রচ্ছদ আবহাওয়া ও জলবায়ু অক্টোবরে শেষ সূর্যোদয়, ফিরবে ফেব্রুয়ারির শেষে: যেখানে টানা ৪ মাস সূর্যহীন জীবন!

অক্টোবরে শেষ সূর্যোদয়, ফিরবে ফেব্রুয়ারির শেষে: যেখানে টানা ৪ মাস সূর্যহীন জীবন!

ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর একেবারে উত্তর প্রান্তে, কানাডার আর্কটিক অঞ্চলের নিঃসঙ্গ প্রান্তে অবস্থিত ‘আলার্ট’ (Alert)—যা পৃথিবীর উত্তরতম স্থায়ী বসতি অঞ্চল। উত্তর মেরু থেকে মাত্র ৮১৭ কিলোমিটার দূরে, নুনাভুটের এল্‌সমির দ্বীপের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত এই ঘাঁটি কানাডার সামরিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার অন্যতম কেন্দ্র। এখানে বছরের একটি সময় পুরো অঞ্চল ঢেকে যায় এক অবিরাম অন্ধকারে—এটাই ‘পোলার নাইট’ বা মেরু রাত্রি, যখন সূর্য টানা ১৩৬ দিন দিগন্তের উপরে ওঠে না।
১৩ অক্টোবর শেষ সূর্যোদয়, ফিরবে ফেব্রুয়ারির শেষে

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ‘আলার্ট’-এ শেষ সূর্যের দেখা মিলেছিল ১৩ অক্টোবর। এরপর ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সূর্য আর উদয় হবে না। এ সময় পুরো অঞ্চল কার্যত অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে, কেবল কৃত্রিম আলোর উপর নির্ভর করে কাজ চালাতে হয়।
সূর্যালোকের অনুপস্থিতিতে ঘাঁটির বাসিন্দাদের জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম বিঘ্নিত হয়, ঘুম-জাগরণের ছন্দ পাল্টে যায়। এ সময় তাপমাত্রা প্রায়ই মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়, আর নিঃসঙ্গতা ও প্রতিকূল আবহাওয়া তাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে।
শুধু কানাডা নয়, আরও কিছু স্থানে ‘সূর্যহীন জীবন’

‘আলার্ট’ একমাত্র নয়, পৃথিবীর আরও কয়েকটি মেরু অঞ্চল প্রতিবছর টানা অন্ধকারের মুখোমুখি হয়।

নরওয়ের সাভালবার্ড ও জান মায়েন দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ১১১ দিন সূর্য ওঠে না। সেখানকার সূর্যাস্ত শুরু হয় ২৬ অক্টোবর, সূর্য ফিরবে ১৫ ফেব্রুয়ারি।
নরওয়ের উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম শহর ট্রোমসো (Tromsø)-তে টানা ৪৯ দিন সূর্য দেখা যায় না—২৭ নভেম্বর থেকে মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার উটকিয়াগভিক (Utqiaġvik) শহরে (আগের নাম ব্যারো) ৬৫ দিন সূর্যহীন রাত—মধ্য নভেম্বর থেকে শেষ জানুয়ারি পর্যন্ত।
রাশিয়ার মুরমানস্কে প্রায় ৪০ দিন অন্ধকারে থাকে এলাকা, আর গ্রিনল্যান্ডের ইলুলিসাতে অক্টোবরের শেষ দিক থেকে শুরু হয় এই দীর্ঘ রাত।
দক্ষিণ গোলার্ধের মেরুপ্রান্তেও একই অবস্থা—অ্যান্টার্কটিকার সাউথ পোল স্টেশন মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস সূর্যহীন থাকে। এ সময়ও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণা অব্যাহত থাকে।
কেন ঘটে ‘পোলার নাইট’?

এই দীর্ঘ রাতের কারণ পৃথিবীর অক্ষের ঝোঁক (tilt)। পৃথিবীর অক্ষ সূর্যের চারপাশে সামান্য হেলে ঘোরে—এর ফলে মেরু অঞ্চলে শীতকালে সূর্য দিগন্তের ওপরে উঠতে পারে না।

শীতের অয়নকালে পৃথিবীর উত্তর বা দক্ষিণ মেরু সূর্য থেকে দূরে হেলে থাকে, ফলে সূর্যের আলো সেখানে পৌঁছাতে পারে না। যত বেশি কেউ মেরুর দিকে যাবে, তত দীর্ঘ হবে এই রাতের সময়কাল।

তবে বিপরীতে, গ্রীষ্মকালে এই একই অঞ্চলে ঘটে তার উল্টো দৃশ্য—‘মিডনাইট সান’, যেখানে টানা কয়েক মাস সূর্য অস্ত যায় না, দিনরাত একই আলোয় ভাসে চারদিক।

অন্ধকারের রাজ্যে মানবজীবনের লড়াই

‘আলার্ট’-এর মতো স্থানে কর্মরত বিজ্ঞানী ও সেনারা এমন বিরূপ পরিবেশে প্রতিদিনই লড়াই করেন প্রকৃতির সঙ্গে। দীর্ঘ অন্ধকার, কনকনে ঠান্ডা আর একাকীত্বের মাঝেও তারা চালিয়ে যাচ্ছেন আবহাওয়া, বায়ুমণ্ডল ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা—যা মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য অমূল্য তথ্য জোগাচ্ছে।

 

সূত্র: এনডিটিভি।

0 FacebookTwitterPinterestEmail

অনুসন্ধান

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া (তুহিন)

নির্বাহী সম্পাদক

সোনিয়া রহমান

অফিসঃ

৪৯ মতিঝিল (৮ম তলা), শাপলা ভবন, শাপলা চত্বর, ঢাকা - ১০০০

ই-মেইলঃ

rightwayciezs@gmail.com

টেলিফোনঃ

+৮৮ ০১৭১২-৭৭৭ ৩৬৩

মার্কেটিংঃ

+৮৮ ০১৯৪৮- ৯০০ ৯১১

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব rightwaynews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত