যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে নতুন করে জল্পনা ছড়ানোর মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের শর্ত পূরণের ওপর জোর দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তাঁর মতে, সংঘাতের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি ইরানের জনগণ এবং তেহরানের ভাষায় ‘প্রতিরোধ ফ্রন্টের’ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় নির্ধারিত শর্তগুলো নিশ্চিত করা জরুরি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন খামেনি।
বৈঠকে রেজাই ইরানের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন খাতে চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে সর্বোচ্চ নেতাকে অবহিত করেন। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতি ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কেও তাঁকে জানানো হয়।
যুদ্ধ বন্ধে শর্ত পূরণের ওপর গুরুত্ব
বৈঠকে মোজতবা খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরানি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত শর্ত পূরণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের জনগণ ও ‘প্রতিরোধ ফ্রন্টের’ অধিকার এবং স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে এ কাউন্সিল কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। এ সময় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক
জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পরিচালনার বিষয়টি উল্লেখ করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি ইরানের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।
উত্তেজনা কমাতে চলছে কূটনৈতিক তৎপরতা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আঞ্চলিক দেশগুলোও আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো উত্তেজনা কমানো, আলোচনার পথ খোলা রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানোর পরিবেশ তৈরি করা।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে নতুন করে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো হামলার সিদ্ধান্ত বা সময়সূচি এই বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করছে কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থানের ওপর।
