ঢাকা মঙ্গলবার ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
প্রচ্ছদ অপরাধ ও অনধিকার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মডেল ও মিস সুইজারল্যান্ড বিয়াত্রিস কিউল। তার দাবি, ১৯৯৩ সালে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তাকে ধর্ষণ করেছিলেন। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ট্রাম্পকে ঘিরে এসব অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে কিউলের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। জেফরি এপস্টেইনের অপরাধের সঙ্গে ট্রাম্পের কথিত যোগসূত্র নিয়ে তৈরি ওই প্রতিবেদনে আরও কয়েকজন নারীর অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে কিউল অভিযোগ করেছিলেন, ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন। তবে ডেমোক্র্যাট কমিটির কর্মীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ওই সময় ট্রাম্প তাকে ধর্ষণও করেছিলেন।

কিউলের বর্ণনা অনুযায়ী, তখন তার বয়স ছিল ২৪ বছর। নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে সময় হোটেলটির মালিক ছিলেন ট্রাম্প।

সাক্ষাতের সময় ট্রাম্প তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার ব্যবস্থা এবং নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন কিউল। প্রতিবেদনে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, ‘আমি তোমার দেখভাল করব।’

কিউলের দাবি, ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথন শেষ হওয়ার পরপরই সেখানে আসেন জেফরি এপস্টেইন। নিজেকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিয়ে এপস্টেইন তাকে মার-আ-লাগোতে একটি পার্টিতে আমন্ত্রণ জানান। এপস্টেইন তাকে বলেছিলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তারা নিয়মিত বিভিন্ন পার্টির আয়োজন করেন।

এরপর ট্রাম্পের এক প্রতিনিধির মাধ্যমে প্লাজা হোটেলের ওপরের তলায় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণ পান বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কিউলের অভিযোগ, সেখানে যাওয়ার পর ট্রাম্প পেছন থেকে তাকে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় তার পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তপাত ও কালশিটে দাগ দেখা দেয় বলে তিনি বর্ণনা দিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটিকে ‘নৃশংস’ বলে উল্লেখ করেছেন কিউল। তার দাবি, ঘটনার পর ট্রাম্প তাকে বিছানার কিনারায় বসান এবং ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আবারও দেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি গোপন রাখার কথাও বলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

তবে কিউলের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্পের এক মুখপাত্র অভিযোগগুলোকে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাফল্যের কারণে রিপাবলিকানদের প্রতি বাড়তে থাকা সমর্থন থেকে মার্কিন নাগরিকদের মনোযোগ সরাতেই এসব অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।

২০২৪ সালে প্রথম অভিযোগ

২০২৪ সালের অক্টোবরে ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিউল প্রথমবারের মতো ১৯৯৩ সালে প্লাজা হোটেলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। সে সময় তার বক্তব্য ছিল, ট্রাম্প তার ঠোঁট ও ঘাড়ে চুমু দিয়েছিলেন, পোশাক ওপরে তোলার চেষ্টা করেছিলেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেছিলেন।

তবে ওই সাক্ষাৎকারে কিউল বলেছিলেন, ঘটনা এর বেশি দূর গড়ায়নি। তিনি ট্রাম্পকে থামানোর চেষ্টা করে আগে কথা বলার কথা বলেছিলেন বলে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর ট্রাম্প শান্ত হয়ে যান।

ছয় ফুট এক ইঞ্চি উচ্চতার সাবেক এই মডেলের ধারণা, তার শারীরিক গড়ন তাকে রক্ষা করতে ভূমিকা রেখেছিল। ডেইলি মেইল সে সময় আরও জানিয়েছিল, কিউলের দীর্ঘদিনের এক বন্ধু দাবি করেছিলেন, ট্রাম্পের অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের কথা কিউল তাকে প্রায় ২০ বছর আগেই জানিয়েছিলেন। বন্ধুটির ভাষ্য অনুযায়ী, এত বছর পরও ঘটনাটি নিয়ে কিউলের বর্ণনায় পরিবর্তন আসেনি।

এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য

ট্রাম্প বরাবরই এপস্টেইনের অপরাধের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হওয়ার অনেক আগেই তাদের বন্ধুত্বের অবসান ঘটেছিল। এপস্টেইনকে তিনি ‘বিকৃত রুচির লোক’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং তাকে মার-আ-লাগো ক্লাব থেকে বের করে দেওয়ার কথাও বলেছেন।

২০২৪ সালে কিউলের অভিযোগ সামনে আসার পর ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সেগুলোকে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছিলেন। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরও হোয়াইট হাউস অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের এক মুখপাত্রের দাবি, এপস্টেইন-সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাম্পকে সম্পূর্ণভাবে দায়মুক্ত করা হয়েছে।

আরও চার নারীর অভিযোগ

ডেমোক্র্যাটদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে কিউল ছাড়াও আরও চার নারীর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই নারীরাও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ কিংবা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি ট্রাম্প, এপস্টেইন ও অন্য ব্যক্তিরা প্লাজা হোটেলে আয়োজিত সুন্দরী প্রতিযোগিতাকে অসহায় তরুণী ও কিশোরীদের লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতেন বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় দেওয়া বিবৃতিতে প্রতিনিধি পরিষদের কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জেমি রাসকিন বলেন, পাঁচ নারী সরাসরি অভিযোগ করেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে থাকা অবস্থায় বা তার উপস্থিতিতে ট্রাম্প তাদের ধর্ষণ কিংবা যৌন নিপীড়ন করেছেন। অন্য নারীরা দাবি করেছেন, এপস্টেইন বা ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল তাদের ট্রাম্পের কাছে পাচার করার চেষ্টা করেছিলেন।

রাসকিন আরও অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্টকে সুরক্ষা দিতে ট্রাম্পের বিচার বিভাগ এসব অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি—দুই বিষয়ই রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। যদিও মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প নিজে কোনো আসনে প্রার্থী নন।

0 FacebookTwitterPinterestEmail

অনুসন্ধান

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া (তুহিন)

নির্বাহী সম্পাদক

সোনিয়া রহমান

অফিসঃ

৪৯ মতিঝিল (৮ম তলা), শাপলা ভবন, শাপলা চত্বর, ঢাকা - ১০০০

ই-মেইলঃ

rightwayciezs@gmail.com

টেলিফোনঃ

+৮৮ ০১৭১২-৭৭৭ ৩৬৩

মার্কেটিংঃ

+৮৮ ০১৯৪৮- ৯০০ ৯১১

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব rightwaynews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত