ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ছাত্রসংগঠনের আন্দোলন ও বিক্ষোভ পুনরারোধ্য করতে অভিনব ও বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে মুম্বাই পুলিশ। নতুন করে কোনো মিছিলে অংশ নেওয়া ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁদের ডিজিটাল লোকেশন ট্র্যাকিং করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
খবরে বলা হয়, আগে থেকে দায়ের করা ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর)-এ নাম থাকা কিংবা আইনি নোটিশ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় থানা থেকে সরাসরি যোগাযোগ করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক পোস্ট ও স্ক্রিনশটে দেখা গেছে, থানার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ফোন কল ও খুদেবার্তার মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বাড়িত অবস্থান নিশ্চিত করতে বলছেন। এমনকি অনেকে নিশ্চিত করার জন্য হোয়্যাটসঅ্যাপের ‘লাইভ লোকেশন’ শেয়ার করার নির্দেশও পাচ্ছেন।
এছাড়া ভারতের নতুন ফৌজদারি আইন ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ (বিএনএসএস)-এর ৩৫(৩) ধারায় ভোরবেলায় মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল আইনি নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। নোটিশে আগের সমাবেশে উপস্থিতি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিক্ষার্থীদের থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সরাসরি বাসভবনে অভিযান ও মোড়ে মোড়ে তল্লাশি
কেবল ডিজিটাল মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকেনি পুলিশ। মুম্বাইয়ের উপশহর ও আশপাশের পৌর এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাসভবনে সরাসরি ইউনিফর্ম পরা পুলিশ পাঠানো হয়। কর্মকর্তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তদন্তের বিষয়ে জানান এবং সন্তানদের যেকোনো ধরনের জনসমাবেশ থেকে দূরে রাখার নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, শহরের প্রধান মেট্রোরেল ও ট্রেন স্টেশনগুলোর মুখে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পূর্বে আটক ব্যক্তিদের তথ্য ও ছবি অন্য সব থানায় সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে রাস্তায় তল্লাশির সময় তাঁদের দ্রুত শনাক্ত করে বিক্ষোভের পথ থেকে ফেরত পাঠানো যায়।
পুলিশের যুক্তি ও আইনি বিতর্ক
মুম্বাই পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপগুলোকে ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে দাবি করছেন। তাঁদের বক্তব্য—তরুণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ফৌজদারি মামলা হলে ভবিষ্যতে তাঁদের পাসপোর্ট তৈরি, উচ্চশিক্ষায় ভর্তি ও চাকুরির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হবে; তাই তাঁদের অপরাধ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে শিক্ষার্থী ও আইনি সহায়তা প্রদানকারী গোষ্ঠীগুলো পুলিশের এই পদক্ষেপকে কঠোর সমালোচনার চোখে দেখছে। তাঁদের মতে, ডিজিটাল লোকেশন ট্র্যাকিং, ব্যক্তিগত মেসেজিং গ্রুপ তল্লাশি এবং বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে উপস্থিতি যাচাই করা সাধারণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার সীমা অতিক্রম করে। এটি সরাসরি নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও চলাফেরার সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে।
দিল্লিতে অব্যাহত আন্দোলন
মুম্বাইয়ে কড়াকড়ির মধ্যেও ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি সমর্থক ও শিক্ষার্থীদের অবস্থান ধর্মঘট বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল। নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ সহ একাধিক প্রতিযোগিতামূলক প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার দাবি করছেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সংসদ ভবন অভিমুখে সিজেপি অনুসারীদের মিছিলে লাঠিচার্জসহ সহিংস পদক্ষেপ নিয়েছিল দিল্লি পুলিশ, যা নিয়ে বর্তমানে ভারতজুড়ে বিতর্ক চলছে।
