উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়া ও তার আশপাশের এলাকাকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও দুর্যোগ-সহনশীল নগর হিসেবে গড়ে তুলতে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৪তম বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে অনুমোদিত এই খসড়া আইনটির মূল লক্ষ্য—বগুড়া ও সংলগ্ন এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা।
যেভাবে কাজ করবে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী বগুড়া সিটি করপোরেশন ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা নিয়ে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’। একজন চেয়ারম্যান, একাধিক সার্বক্ষণিক সদস্য এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে।
এই কর্তৃপক্ষের প্রধান কাজগুলো হবে:
-
মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন: বিধিবদ্ধ নিয়ম ও গণশুনানি নিশ্চিত করে এলাকাটির জন্য দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা, স্থানীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করবে।
-
ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক: কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত এলাকায় যেকোনো প্রকার গৃহনির্মাণ বা উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
-
আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা: শহর পুনর্গঠনে ‘ল্যান্ড রিডজাস্টমেন্ট’ ও ‘ল্যান্ড রিডেভেলপমেন্ট’-এর মতো আধুনিক পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে। তবে ভূমি পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে স্থানীয় অন্তত ৬০ শতাংশ ভূমিমালিকের সম্মতি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও শাস্তির বিধান
নতুন এই আইনে নদী-নালা, জলাশয়, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণে কঠোর পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। নিয়ম অমান্য করে জলাধার ভরাট বা অননুমোদিত ভবন নির্মাণ করলে কঠোর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে নিজস্ব তহবিল গঠন, নির্ধারিত উন্নয়ন ফি ধার্য, ঋণ গ্রহণ এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নিয়মিত নিরীক্ষার (অডিট) ব্যবস্থা সংবলিত ধারা আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
