যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন
নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতা হবে না। বৃহস্পতিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এক উপদেষ্টা এই অবস্থান তুলে ধরেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তার এই বক্তব্য প্রচার হয়েছে। এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এলো, যখন সংঘাত এড়াতে নতুন দফায় আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। এদিকে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর ইরনা ও আলজাজিরার।
গত সপ্তাহে ওমানে দুই দেশের কূটনীতিকরা পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক মিছিলে অংশ নিয়ে আলী শামখানি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা হতে পারে না। এর আগে গত রবিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও একই সুরে কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কখনোই আলোচনার এজেন্ডায় ছিল না। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে তাতে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আনতে রাজি থাকলেও তার বিনিময়ে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্ত দিয়েছে। তবে পারমাণবিক ইস্যুর সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে যুক্ত করতে বারবার অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে দেশটি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা যেন কমছেই না। নতুন কোনো সংঘাত এড়ানোর জন্য যদিও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে, তারপরও হুমকি দিতে ছাড়ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, ইরান যদি একটি চুক্তিতে না পৌঁছায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে খুব কঠিন কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে। ওমানের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক হয়েছে। সেখানে ইরানের পরমাণু ইস্যু, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলাপ হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তখন কূটনৈতিক এই আলাপ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। এই আলোচনা শুরু হয় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সেনা মোতায়েনের পর। পরের ধাপে কবে আলোচনা হবে, তা জানা যায়নি। প্রধান ধাপের আলোচনা সংঘাত এড়াতে কিছুটা আশার আলো দেখালেও সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১২কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমাদের হয় একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। না হলে আমাদের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি রণতরীর বহর মোতায়েন করা রয়েছে। সেখানে আরেকটি রণতরী মোতায়েনের কথা ভাবছেন বলে চ্যানেল ১২-কে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ায় মোতায়েন থাকা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে মোতায়েন থাকা ইউএসএস এইচ ডব্লিউ বুশকে মধ্যপ্রাচ্যে আনা হতে পারে। তবে সেগুলো ইরানের কাছাকাছি পৌঁছাতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগতে পারে। এ ছাড়া ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড মোতায়েন রয়েছে। সেটিও মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হতে পারে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ ঘাঁটিতেও তৎপরতা শুরু হয়েছে। স্যাটেলাইট থেকে ধারণ করা ছবিতে দেখা গেছে, ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে সক্ষম ট্রাকগুলোয় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ভরা হচ্ছে। এর অর্থ হলো- ইরানের হামলার সময় সেগুলো যেন দ্রুত প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানে নেওয়া যায়। অর্থাৎ ওয়াশিংটনও ইরানের হামলার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছে না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা কীভাবে এগোবে তা নিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৃহস্পতিবারের আলোচনায় কোনো সীমানির্দেশক চুক্তি হয়নি।
ইরানের সঙ্গে কোনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যায় কি না তা দেখতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ভা-ার সীমিত করার বিষয়টিও যুক্ত করার জন্য ট্রাম্পকে কূটনীতি সম্প্রসারিত করতে চাপ দেওয়ার আশায় ছিলেন নেতানিয়াহু। কিন্তু ট্রাম্প সে ধরনের কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে ইঙ্গিত দেননি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। শুধু বলেছেন, ইসরাইলের নিরাপত্তা স্বার্থ অবশ্যই আমলে নিতে হবে।
