ছবি: সংগৃহীত
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি না হলে “খারাপ কিছু ঘটতে পারে” বলে সতর্ক করার পরই এই ঘোষণা আসে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, হুমকি ও অযৌক্তিক প্রত্যাশামুক্ত পরিস্থিতি নিশ্চিত হলে তবেই ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক আলোচনায় এগোনো সম্ভব। সে কারণেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, যেকোনো আলোচনা ইরানের জাতীয় স্বার্থের সীমার মধ্যেই পরিচালিত হবে।
উল্লেখ্য, গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে সেই বিক্ষোভ দমন করা হলেও প্রাণঘাতী পদক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরীর বহর মোতায়েন করে। ওয়াশিংটন এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দেয়।
এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো একটি সমাধানে পৌঁছানো এখনও সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, চুক্তি না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা কূটনীতিতে বিশ্বাসী হলেও আগ্রাসনের মুখে কঠোর জবাব দিতেও প্রস্তুত।
ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আলোচনা কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা তারা গ্রহণ করবে না। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি পারমাণবিক অস্ত্র না থাকার নিশ্চয়তা দিয়ে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তির পথে এগোয়, তাহলে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলার পথ বেছে নেয়, তাহলে তা সহজেই একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এই বাস্তবতায় কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা এগোবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজরদারি বাড়ছে।
