বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি বিএনপি বিশ্বাস করে না। বরং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে একটি ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।”
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর স্বামীবাগ ইসকন সেবাশ্রমে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা মহাউৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়
অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দর্শন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ অনুসরণ করেই আমরা সব ধর্মের সব মতের মানুষের সাথে একাত্ম হয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন কামনা করি। ধর্ম নিয়ে রাজনীতিতে যে বিভাজনের সৃষ্টি করা হয়, আমরা তা বিশ্বাস করি না।”
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। কিন্তু সেই অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্যের চেতনাকে নষ্ট করার জন্য অতীতে বিভিন্ন অপশক্তি বারবার চেষ্টা করেছে। এখনো সেই অপচেষ্টা পুরোপুরি শেষ হয়নি।”
জনকল্যাণে সরকারের নানা উদ্যোগ
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই সরকার দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী সব ধর্মকেই সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর পাশাপাশি দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। মুসলিমদের মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, হিন্দুদের মন্দিরের পুরোহিত কিংবা বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানদের উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্য এই বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
“বাংলাদেশ কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের জন্য নয়; এটি সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের দেশ।”
— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
সবশেষে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কোনো ধর্মের মানুষ যাতে বাড়তি সুবিধা পেয়ে অন্যদের বঞ্চিত করতে না পারে, বর্তমান সরকার সেই সমতা নিশ্চিত করতেই কাজ করে যাচ্ছে।
