ঢাকা সোমবার ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
প্রচ্ছদ অপরাধ ও অনধিকার ১০ কোটি টাকার ফুটওভার ব্রিজে এস্কেলেটর বন্ধ, হাঁটার পথ হকারদের দখলে

১০ কোটি টাকার ফুটওভার ব্রিজে এস্কেলেটর বন্ধ, হাঁটার পথ হকারদের দখলে

নিউমার্কেট এলাকায় নির্মিত ফুটওভার ব্রিজ (ওপরে), ব্রিজ দখল করে বসানো দোকান (নিচে বাঁয়ে) ও বন্ধ এস্কেলেটর (নিচে ডানে)।

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর নিউমার্কেটে পথচারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পারাপার নিশ্চিত করতে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ফুটওভার ব্রিজ। তবে উদ্বোধনের আট মাস না পেরোতেই গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো ঘিরে দেখা দিয়েছে অব্যবস্থাপনা। ব্রিজের চলন্ত সিঁড়ি বা এস্কেলেটর বন্ধ, আর হাঁটার জায়গা ও প্রবেশপথের বড় অংশে বসেছে হকারদের দোকান। ফলে নিরাপদে সড়ক পারাপারের সুবিধা দিতে নির্মিত ব্রিজটিই এখন অনেকের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সরেজমিনে নিউমার্কেট এলাকার ফুটওভার ব্রিজে গিয়ে দেখা যায়, বন্ধ রয়েছে চলন্ত সিঁড়ি। ফলে প্রবীণ, নারী, শিশু এবং শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদেরও সাধারণ সিঁড়ি ব্যবহার করে ওঠানামা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ব্রিজের প্রবেশপথ ও হাঁটার জায়গায় দোকান বসানোয় সংকুচিত হয়ে পড়েছে পথচারীদের চলাচলের স্থান।

ঢাকা নিউ সুপার মার্কেট ও গাউছিয়া মার্কেটের সংযোগস্থলে মিরপুর সড়কের ওপর নির্মিত এই ফুটওভার ব্রিজটির অন্যতম প্রধান সুবিধা ছিল এস্কেলেটর। ব্যস্ত সড়ক নিরাপদে পারাপারের পাশাপাশি যাঁদের সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করতে কষ্ট হয়, তাঁদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেটি বন্ধ থাকায় ব্রিজটির বিশেষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ব্যবহারকারীরা।

এস্কেলেটর বন্ধ, ভোগান্তিতে পথচারীরা

নিউমার্কেট এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ক্রেতা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত। কেনাকাটার ব্যাগ হাতে কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চলাচলের সময় সিঁড়ি বেয়ে ব্রিজে ওঠানামা অনেকের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তি, ছোট শিশু ও শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষের দুর্ভোগ বেশি।

উত্তরা থেকে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, মানুষের নিরাপদ পারাপারের জন্য ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এস্কেলেটর বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে সাধারণ সিঁড়ি ব্যবহার করতে হচ্ছে। বয়স্কদের জন্য সিঁড়ি বেয়ে ওঠা বেশ কষ্টকর। অনেক সময় মাঝপথে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিতে হয়, আবার নামার সময়ও সতর্ক থাকতে হয়।

তিনি বলেন, এস্কেলেটর চালু থাকলে মানুষ সহজে সড়ক পারাপার করতে পারতেন। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাই যদি ব্যবহার করা না যায়, তাহলে সেই অর্থ ব্যয়ের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাই এস্কেলেটর সচল রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।

যাত্রাবাড়ী থেকে নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী হোসনে আরা বেগম বলেন, শিশুদের নিয়ে সড়ক পার হতে গেলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। এস্কেলেটর চালু থাকলে বাচ্চাদের নিয়ে ওঠানামা করা অনেক সহজ হতো। এখন সিঁড়ি ব্যবহার করতে হচ্ছে, হাতে কেনাকাটার ব্যাগ থাকলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

তাঁর মতে, মানুষের সুবিধার জন্য এত টাকা খরচ করে ব্রিজ নির্মাণের পরও যদি গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ এর পূর্ণ সুফল পাবেন না। দ্রুত এস্কেলেটর চালু করে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

প্রবীণ ও শিশুদের বাড়তি দুর্ভোগ

ফুটওভার ব্রিজটির নকশায় চলন্ত সিঁড়ির পাশাপাশি দুই পাশে সাধারণ সিঁড়িও রাখা হয়েছে। কিন্তু এস্কেলেটর বন্ধ থাকায় যাঁদের জন্য বিশেষ সুবিধাটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাঁদেরই শারীরিক কষ্ট করে ওঠানামা করতে হচ্ছে।

নিউ সুপার মার্কেট থেকে গাউছিয়া মার্কেটে যাওয়ার পথে ব্রিজটি ব্যবহার করা প্রবীণ নাগরিক মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, বয়সের কারণে আগের মতো হাঁটাচলা করতে পারেন না। সিঁড়িগুলো দিয়ে উঠতে গেলে হাঁপিয়ে ওঠেন এবং মাঝেমধ্যে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিতে হয়। এস্কেলেটর চালু থাকলে এতটা কষ্ট করতে হতো না।

তিনি বলেন, সিঁড়ি দিয়ে নামার সময়ও ভয় লাগে। পা পিছলে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নিরাপদে রাস্তা পার হওয়ার জন্য ব্রিজ ব্যবহার করতে এসে যদি এত ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তাহলে বয়স্ক মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

শিশুসন্তানকে নিয়ে নিউমার্কেট এলাকায় আসা ফারজানা ইসলাম লাইজু বলেন, ছোট শিশুদের নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা বেশ কঠিন। বাচ্চার হাত শক্ত করে ধরে এক ধাপ এক ধাপ করে উঠতে হয়। একটু অসাবধান হলেই পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এস্কেলেটর চালু থাকলে শিশুদের নিয়ে সহজে পারাপার করা যেত।

এদিকে, ব্রিজের প্রবেশপথে ভিড় এবং হাঁটার জায়গা সংকুচিত থাকায় স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে দুই দিক থেকে আসা পথচারীদের চলাচলে বাধা তৈরি হয়। এতে বিরক্ত হয়ে কেউ কেউ ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে সরাসরি সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, যা ব্যস্ত মিরপুর সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবহারকারীরা।

প্রায় ১০ কোটি টাকার প্রকল্প, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার?

নিউমার্কেট এলাকায় যানজট ও সড়ক পারাপারে ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ৪২ মিটার এবং প্রস্থ ২০ ফুট। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সরাসরি তত্ত্বাবধানে ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৬২ হাজার ২৫৮ টাকা ৫৯ পয়সা ব্যয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। পরে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিজটি উদ্বোধন করা হয়।

ব্রিজটির পূর্ব পাশে গাউছিয়া মার্কেট ও নূর ম্যানশন এবং পশ্চিম পাশে নিউ সুপার মার্কেটের সঙ্গে সংযোগ রাখা হয়েছে। রাতে নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক আলোকব্যবস্থাও। এসব সুবিধার মূল উদ্দেশ্য ছিল পথচারীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা।

কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই এস্কেলেটর বন্ধ থাকা এবং চলাচলের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্রিজটির রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ব্রিজের সিঁড়িগুলোর উচ্চতা বেশি হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সরেজমিনে পরিদর্শন করে এর কারণ ও সম্ভাব্য সমস্যা জানার চেষ্টা করা হবে। স্থাপত্য নকশায় সিঁড়ির ধাপের নির্দিষ্ট অনুপাত বজায় রাখার বিষয় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্থপতিরা কী বিবেচনায় নকশাটি করেছেন, তা পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ফুটওভার ব্রিজের এস্কেলেটর বন্ধ থাকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। কেন এটি বন্ধ রয়েছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তা জানার চেষ্টা করা হবে এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

হাঁটার পথ দখলে হকার, কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

ফুটওভার ব্রিজের প্রবেশপথ ও হাঁটার জায়গায় হকারদের দোকান বসায় পথচারীদের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় দোকানদারদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পর আবার হকাররা সেখানে দোকান বসান। ফলে একদিকে এস্কেলেটর বন্ধ, অন্যদিকে দোকানের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাচল।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, ফুটপাত ও ব্রিজের জায়গা দখল করে দোকান বসানোর পেছনে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, হকারদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে উচ্ছেদের পর আবার বসার সুযোগ করে দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউমার্কেটের পাশের এক স্থায়ী দোকানি বলেন, মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে ফুটপাত ও ব্রিজের দোকান সরানো হলেও কিছুদিন পর আবার দোকান বসতে দেখা যায়। প্রবেশপথে দোকান থাকলে মানুষের চলাচলে সমস্যা হয়। শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই হবে না, দখলমুক্ত জায়গা ধরে রাখতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

ফুটওভার ব্রিজের নিয়মিত ব্যবহারকারী ও চন্দ্রিমা মার্কেটের ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম বলেন, ব্রিজের প্রবেশপথে দোকান থাকলে ভিড়ের মধ্যে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। একবার দোকান সরানোর পর আবার দখল হয়ে গেলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী—উভয়কেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত নজরদারিতে রাখা দরকার।

পরিকল্পনাবিদের পরামর্শ

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, নিউমার্কেটের মতো ব্যস্ত এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল রয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথচারীদের সুবিধার জন্য নির্মিত অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে ঢাকাকে পথচারীবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলা কঠিন হবে।

তিনি বলেন, ব্রিজের এস্কেলেটর দ্রুত সচল করার পাশাপাশি এর ওপর ও আশপাশে স্বাভাবিক চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; সেটিকে ব্যবহার উপযোগী রাখা এবং নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখাও জরুরি।

আরিফুল ইসলামের মতে, উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সাময়িকভাবে দোকান সরানোর পরিবর্তে নিয়মিত নজরদারি, পুনরায় দখল ঠেকানো এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। হকারদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তাঁদের বসার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ থাকলে সেটিও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নির্ধারিত স্থান ও লাইসেন্সের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে ফুটওভার ব্রিজ ও পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত জায়গায় দোকান বসতে দেওয়া উচিত নয়। এতে একদিকে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন হবে, অন্যদিকে হকাররাও নিয়ম মেনে ব্যবসা করার সুযোগ পাবেন।

হকারদেরও নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যবসার দাবি

ব্রিজে নারীদের প্রসাধনী ও ব্যাগ বিক্রি করা এক হকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই ব্যবসা করেই তাঁর পরিবারের খরচ চলে। প্রতিদিনের আয় দিয়ে খাবার, বাড়িভাড়া ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে হয়। অন্য কোথাও ব্যবসার সুযোগ না থাকায় এখানে বসে পণ্য বিক্রি করেন।

তিনি বলেন, মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়াটাও ঠিক নয়। কর্তৃপক্ষ যদি নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যবসা করার সুযোগ করে দেয়, তাহলে তাঁরা জীবিকাও চালাতে পারবেন, আবার পথচারীদের চলাচলেও সমস্যা হবে না।

তবে ওই হকার অভিযোগ করেন, অন্য কোথাও জায়গা না পাওয়ায় এখানে বসতে হয়। মাঝেমধ্যে পুলিশ এসে উঠিয়ে দেয়। তাঁর দাবি, টাকা দিলে অনেক সময় কিছু বলা হয় না। এ ছাড়া লাইনম্যানের নামেও দৈনিক টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উচ্ছেদ অভিযানের ঘোষণা ডিএসসিসি প্রশাসকের

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, রাস্তায় যানজট, যত্রতত্র ময়লা ফেলা এবং পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির পেছনে অবৈধ হকার ও ভাসমান দোকানের ভূমিকা রয়েছে। ঢাকাবাসীকে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে হবে। মানবিকতার দোহাই দিয়ে রাস্তা ও ফুটপাত দখলের সুযোগ নেই।

তিনি জানান, ডিএসসিসির নির্ধারিত নিয়মের বাইরে দোকান বসালে মালামাল জব্দ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিউমার্কেট এলাকার সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আগামী সপ্তাহেই পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলেও জানান তিনি।

ডিএসসিসি প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না।

সুবিধা নিশ্চিত না হলে ব্যর্থ হবে বিনিয়োগ

নিউমার্কেটের ফুটওভার ব্রিজের বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হয় না। সেটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রপাতি সচল রাখা, চলাচলের পথ দখলমুক্ত রাখা এবং কার্যকর তদারকিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজের এস্কেলেটর বন্ধ থাকা এবং হাঁটার জায়গা হকারদের দখলে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত সুবিধা ব্যাহত হচ্ছে। তাই এস্কেলেটর সচল করা, প্রবেশপথ ও হাঁটার জায়গা দখলমুক্ত রাখা এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।

অন্যথায়, পথচারীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নির্মিত এই অবকাঠামোর পূর্ণ সুফল পাওয়া কঠিন হবে।

0 FacebookTwitterPinterestEmail

অনুসন্ধান

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া (তুহিন)

নির্বাহী সম্পাদক

সোনিয়া রহমান

অফিসঃ

৪৯ মতিঝিল (৮ম তলা), শাপলা ভবন, শাপলা চত্বর, ঢাকা - ১০০০

ই-মেইলঃ

rightwayciezs@gmail.com

টেলিফোনঃ

+৮৮ ০১৭১২-৭৭৭ ৩৬৩

মার্কেটিংঃ

+৮৮ ০১৯৪৮- ৯০০ ৯১১

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব rightwaynews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত